পোল্যান্ডের অর্থনীতিতে ইউক্রেনীয় অভিবাসীদের অবদান বাড়ছে

গত মাসের শুরুতে পোল্যান্ডে কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত জাতীয় আদালত ইউক্রেনীয় অভিবাসী মালিকানাধীন ২৯ হাজার ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে।

গত মাসের শুরুতে পোল্যান্ডে কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত জাতীয় আদালত ইউক্রেনীয় অভিবাসী মালিকানাধীন ২৯ হাজার ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর খোলা হয়েছে ১৩ হাজার ১৪টি। তবে ছোট-বড় মিলিয়ে বর্তমানে পোল্যান্ডে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্থা প্রায় এক লাখ। খবর ইউরো নিউজ।

২০২২ সালে রুশ আক্রমণের পর দলে দলে ইউক্রেনীয়রা সীমান্ত পার হয়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন। যার সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখ। এসব শরণার্থীর বড় একটি অংশ এখন প্রতিবেশী দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে শুরু করেছে।

নিয়োগবিষয়ক সংস্থা গ্রেমি পারসোনালের তথ্যানুসারে, গত সাড়ে তিন বছরে পোল্যান্ডে গঠিত নতুন কোম্পানির মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশই ইউক্রেনীয় মালিকানাধীন। যুদ্ধ শুরুর পর গঠিত হওয়ায় এসব কোম্পানির সম্মিলিত মূলধন এখন প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। গত বছর ইউক্রেনীয় উদ্যোক্তা ও কর্মীরা ব্যক্তিগত ও করপোরেট আয়কর হিসেবে পোলিশ বাজেটে প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো যোগ করেছেন।

গ্রেমি পারসোনালের ডেপুটি সিইও ডামিয়ান গুজম্যান বলেন, ‘এসব তথ্য প্রমাণ করে ইউক্রেনীয়রা পোল্যান্ডের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং কর দেয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন ভোগব্যয়ের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। তারা চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং অন্যদের চাকরি দিচ্ছে—যা পরিষেবা ও ব্যবসা খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।’

তিনি জানান, অবশ্যই পোল্যান্ডে ব্যবসা করতে গেলে দেশটির অর্থনীতি ও ব্যবসার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। আরো উন্নতি করতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত নিয়মের ভিত্তিতেই ব্যবসা করতে হবে। এটি অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কারণ ইউক্রেনে ব্যবসার ধরন ও নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই পোল্যান্ডের চেয়ে ভিন্ন।

তবে ইউক্রেনীয়দের জন্য পোল্যান্ডে ব্যবসা করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় কোম্পানি প্রতিষ্ঠা নয়। পোলিশ ইকোনমিক ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০২২ সালের শুরু থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ইউক্রেনীয় নাগরিকরা পোল্যান্ডে ৮৮ হাজার ৫০০টি একক মালিকানাধীন ব্যবসা (জেডিজি) খুলেছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজারেরও বেশি খোলা হয়েছে গত এক বছরে। অর্থাৎ কোম্পানি ও একক মালিকানাধীন ব্যবসা মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পোল্যান্ডে ইউক্রেনীয়রা এক লাখের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে পোল্যান্ডে খোলা প্রতি ১০টি জেডিজির মধ্যে একটি হচ্ছে ইউক্রেনীয় ব্যবসা এবং বিদেশী নিবন্ধিত ব্যবসার ৮৫ শতাংশই ইউক্রেনীয় মালিকানাধীন।

পোলিশ ইকোনমিক ইনস্টিটিউটের ইকোনমিক ফোরসাইট বিভাগের প্রধান ড. কাটারজিনা ডেবকোভস্কা জানান, ইউক্রেনীয়দের নিবন্ধিত ব্যবসা থেকে দেখা যাচ্ছে তারা নির্মাণ, আইটি ও সেবা খাতে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ তিন খাত মিলে মোট নিবন্ধিত কোম্পানি অর্ধেকেরও বেশি।

কাটারজিনা ডেবকোভস্কার মতে, তিনটি প্রধান কারণে পোল্যান্ডে থাকা ইউক্রেনীয়রা ব্যবসাকে বেছে নিচ্ছে। প্রথমত, নিজেদের দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে কাজ বেছে নেয়াকে তারা জীবিকার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় মনে করে। কারণ পোল্যান্ডে স্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিকভাবে নিযুক্ত ইউক্রেনীয়দের সাধারণত তাদের যোগ্যতার চেয়ে নিচু স্তরের পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

দ্বিতীয় কারণ হলো হিসাবরক্ষণ ও করসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা। এরপর রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা। কারণ পোল্যান্ডে কোম্পানি নিবন্ধন করলে পুরো ইইউর বাজারে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের একটি বড় অংশ অভিবাসীরাই। কাটারজিনা ডেবকোভস্কা বলেন, ‘নতুন ইউক্রেনীয় ব্যবসাগুলো প্রায়ই পোল্যান্ডে বসবাসকারী ইউক্রেনীয়দের লক্ষ্য করে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করে।’

তিনি আরো জানান, ইউক্রেনীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো পোলিশ অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী এবং শ্রমবাজারের কিছু শূন্যস্থান পূরণে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। যা নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবহন লজিস্টিক খাতের অংশগ্রহণ থেকেই বোঝা যায়।

আরও